- ///
- ভোলা




ভোলা, বরিশাল
ভোলা জেলা, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বরিশাল বিভাগের অন্তর্ভুক্ত একটি মনোরম উপকূলীয় অঞ্চল। এটি একটি বিশাল ব-দ্বীপ। মেঘনা এবং তেঁতুলিয়া নদী এই জেলার দুই পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। এই উপকূলীয় অঞ্চলটি সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশ, গ্যাসের মজুদ, বিস্তীর্ণ ভূমি, কিছু ছোট দ্বীপ, নদী এবং সাগর বেষ্টিত। এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ রয়েছে। মূলত গ্যাস রিজার্ভ এই জেলার আর্থসামাজিক অবস্থা এবং আধুনিকায়নে ব্যাপক পরিবর্তন এনে দিচ্ছে।
ভোলা জেলা ইলিশের আবাসস্থল, গ্যাস রিজার্ভ এবং মনপুরা-হাতিয়া-নিঝুমদ্বীপ-চরফ্যাশন ইত্যাদি উপকূলীয় এলাকার জন্য পরিচিত। এখানকার ঘুইঙ্গার হাটের মিষ্টি এবং ঘোষের দধি সারা দেশে জনপ্রিয়। বিখ্যাত বিদ্বান এবং ধার্মিক ভোলা গাজীর নামে এই জেলার নামকরণ করা হয়েছিল। এই দ্বীপের আনুমানিক বয়স প্রায় ৩ হাজার বছর। জেলাটি বাংলাদেশের রানী নামে পরিচিত।
এই জেলার দক্ষিনে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে নোয়াখালী এবং চট্রগ্রাম বিভাগ, উত্তরে ফরিদপুর, লক্ষীপুর এবং কুমিল্লা, পশ্চিমে বরিশাল, পটুয়াখালী এবং বরগুনা জেলা। চরফ্যাশন-ভোলা হাইওয়ে, বরিশাল-ভোলা হাইওয়ে, এবং উপজেলা রোড, এই জেলার প্রধান সড়ক। যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হলো, এই জেলায় কোনও রেলপথ এবং বিমানবন্দর নেই। এছাড়াও সারা দেশের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। জলপথে এই জেলা সারা দেশের সাথে সংযুক্ত।
এই জেলার অর্থনীতি মূলত কৃষি এবং মৎস উৎপাদন নির্ভর। এই জেলায় বড় কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান কিংবা কারখানা নেই। তবে এখানে জুতা, প্লাস্টিক, কলম, পেন্সিল, মোম, প্রসাধনী, আলকাতরা, ইত্যাদি কারখানা রয়েছে অনেক। ভোলা জেলার টোটাল আয়তন ৩৭৩৭.২১ বর্গ কিমি। এই জেলার ভৌগোলিক অবস্থান এটিকে কৃষি বাণিজ্য, লবন এবং মৎস উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এই জেলা ঝুঁকিপূর্ণ।
ভোলায় চর এবং ছোট দ্বীপ সহ বেশ কিছু সুন্দর পর্যটন স্পট রয়েছে। এই জেলার জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে মনপুরা দ্বীপ, চর কুকরি মুকরি, ঢালের চর, বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্মৃতি জাদুঘর, নিজামের মসজিদ, এবং জ্যাকব টাওয়ার। ভোলায় সাতটি দ্বীপ রয়েছে - ভোলা দ্বীপ, মনপুরা দ্বীপ, ধলের চর, চর কুকরি মুকরি, চর জহিরুদ্দিন, চর নিজাম, এবং চর নাজুর রহমান।
ভোলা সরকারি কলেজ, চরফ্যাশন সরকারি কলেজ, সরকারি ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজ, ভোলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ইত্যাদি এই জেলার পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এছাড়াও এখানে অনেক প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এই জেলায় একটি আধুনিক সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। এছাড়াও এখানে বেশ কিছু সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, যক্ষ্মা ক্লিনিক, ডায়াবেটিক হাসপাতাল, এবং প্রচুর স্যাটেলাইট ক্লিনিক রয়েছে।
ভোলার কেচিয়ায় প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও সম্প্রতি এই জেলায় ২.৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ আবিষ্কার হয়েছে, যা এই জেলা তো বটেই বাংলাদেশের জিওপলিটিক্যাল অবস্থান তাৎপর্যময় করে তুলতে পারে। এখানে প্রচুর কর্মসংস্থান এবং সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তাই এখানে বিভিন্ন আবাসন প্রকল্প, সড়ক এবং সেতুর নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।
সিটি ইনসাইট
পরিচিত ল্যান্ডমার্ক সমূহ
Bhola Circuit House
Bhola Govt High School
Monpura Island
Elisha Ferry Ghat
Shashibhushan Eco Park