শ্রীমঙ্গল, সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার একটি শান্ত ও মনোরম উপজেলা। উপজেলাটি চা বাগান, পাহাড়ি পরিবেশ এবং সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত। এই অঞ্চলটি ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত। এই এলাকাটি "চায়ের রাজধানী" নামেও পরিচিত। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং প্রাণবন্ত সংস্কৃতি আপনাকে মানসিক প্রশান্তি এনে দেবে।<br><br>
এখানকার অর্থনীতি মূলত চা এবং পর্যটন নির্ভর। এছাড়াও এখানে রাবার, আনারস, লেবু, পান, ইত্যাদি প্রচুর পরিমানে উৎপাদিত হয়। এখানকার চা শিল্প দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পর্যটন স্পট, এবং বাহারী রিসোর্টের কারণে সারা বছরই এখানে প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটে। যা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করছে।<br><br>
এই উপজেলার উত্তর দিকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা, দক্ষিণ দিকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমানা, পূর্ব দিকে কমলগঞ্জ উপজেলা, এবং পশ্চিম দিকে চুনারুঘাট, নবীগঞ্জ উপজেলা, এবং হবিগঞ্জ জেলা অবস্থিত। ঢাকা-মৌলভীবাজার মহাসড়ক, শ্রীমঙ্গল-ভানুগঞ্জ সড়ক, ভারাউড়া সড়ক এবং কালীঘাট সড়ক, এলাকাটিকে সারা দেশের সাথে সংযুক্ত করেছে। এখানে সড়ক এবং রেলপথ ব্যবস্থা বেশ ভালো। তবে রাস্তাঘাট ভালো হলেও গণপরিবহন অপ্রতুল।<br><br>
শ্রীমঙ্গল প্রকৃতিপ্রেমী এবং পর্যটকদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। শুধু চা বাগানই নয় বরং সম্মৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায় এবং নির্মল পরিবেশের জন্যও বিখ্যাত। শ্রীমঙ্গলের জলবায়ু খুবই মনোরম। এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, তাই আবহাওয়া বেশিরভাগ সময় আর্দ্র থাকে। শ্রীমঙ্গল ভ্রমণের পারফেক্ট সময় হল শীতকাল (অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত)। তবে সব ঋতুতেই শ্রীমঙ্গলের অপরূপ সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে।<br><br>
উপজেলাটি বিলাশ (গোপলা) নদী সহ, বিভিন্ন হাওর এবং জলাশয়ে ঘেরা। এলাকাটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটন স্থান এবং স্থাপনা রয়েছে। যেমন - লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, চা বাগান ও এস্টেট, হাম হাম জলপ্রপাত, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, ডেনস্টন কবরস্থান, রাবার কারখানা, বসু দেব মন্দির, সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা, চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাইক্কা বিল, মাধবপুর লেক, হাইল হাওর, ভারাউড়া হ্রদ, মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, মণিপুরী গ্রাম, বিভিন্ন ইকো রিসর্ট, ইত্যাদি।<br><br>
প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী হাইল হাওরের তীরে বসতি স্থাপনকারী দুই ভাই শ্রী দাস এবং মঙ্গল দাসের নামে এই উপজেলার নামকরণ করা হয়েছিল। এই অঞ্চলটিতে মণিপুরী রাসলীলা, মণিপুরি নৃত্য, এবং খাসিয়া নববর্ষ সহ বিভিন্ন স্বতন্ত্র উৎসব দেখা যায়। এখানে বাঙালি, মণিপুরী, গারো এবং খাসিয়া সহ বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করেন। এই অঞ্চনের মাটন সাতকরা এবং নীলকণ্ঠ চা কেবিনের ৭ রঙের চায়ের স্বাদ অতুলনীয়।<br><br>
তবে শ্রীমঙ্গলে জীবনযাত্রার মান ভিন্ন। এখানকার আবাসিক এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার মতো সুযোগ-সুবিধা মাঝারি মানের। এখানকার জীবনযাত্ৰা কিছুটা ব্যায়বহুল। এখানকার অধিকাংশ ব্যবসা-বাণিজ্য পর্যটন কেন্দ্রিক। ভিক্টোরিয়া হাই স্কুল, ভুনাবীর দশরথ হাই স্কুল ও কলেজ এবং জামিয়া লুৎফিয়া আনোয়ারুল উলূম মাদ্রাসা, এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পর্যটন স্পট এবং কৃষি ভিত্তিক ব্যবসায়িক কেন্দ্র হওয়ায় এখানকার প্রপার্টির দাম বেশ চড়া।
অন্তর্দৃষ্টি দেখুন