সিলেট সদরের বর্ণিল, ব্যস্ত ও কোলাহলের মাঝে ছোট্ট একটি আবাসিক এলাকা চৌহাট্টা। এলাকাটি সিলেট মেট্রোপলিটন সিটির কোতোয়ালি থানার অধীনে এবং এটি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৭ নং ওয়ার্ডের একটি অংশ। এলাকাটি সিলেট শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায়, এখানে আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। এই কারণে এই এলাকার প্রপার্টির দামও কিছুর বেশি।<br><br>
চৌহাট্টা, নয়াসড়ক রোড, ভিআইপি রোড এবং হযরত শাহ জালাল রোড দ্বারা সংযুক্ত। আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, জালালাবাদ, এবং বোর্ড বাজার এই এলাকার খুব কাছেই অবস্থিত। চারটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার সংযোগ স্থলে এই এলাকাটি অবস্থিত, তাই এলাকাটি আবাসিক এলাকা হিসেবে সবার কাঙ্খিত। চৌহাট্টা পয়েন্টে বাস স্টপেজ রয়েছে, এখান থেকে সিলেট জেলার বিভিন্ন স্থান সহ দেশের সকল জেলা শহরে সহজেই যাতায়াত করা যায়। আন্তঃনগর বাস কাউন্টার, রেল স্টেশন এবং এয়ারপোর্ট, এই এলাকার খুব কাছেই অবস্থিত।<br><br>
চৌহাট্টার রাস্তার দুপাশে চোখে পড়বে বিভিন্ন শোরুম, রেস্টুরেন্ট, এবং সার্ভিস সেন্টার। এই এলাকার আশেপাশে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাঙ্ক এবং এটিএম বুথ রয়েছে, যেমন ইস্টার্ন ব্যাঙ্ক লিমিটেড, ট্রাস্ট ব্যাঙ্ক লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাঙ্ক লিমিটেড, ইত্যাদি। এখানে স্যামসাং, রিয়েলমি, ভিভো, সিঙ্গার, ভিশন, এলজি, তোশিবা, ইত্যাদি জনপ্রিয় ইলেকট্রনিক ব্র্যান্ডের শোরুম রয়েছে। এছাড়াও এলাকার মধ্যে কাঁচাবাজার, মুদি দোকান, মসজিদ এবং খেলার মাঠ রয়েছে। এলাকার মধ্যে এবং আশেপাশেই আপনি বিভিন্ন নাগরিক সুযোগ সুবিধা পাবেন।<br><br>
হযরত শাহজালাল রাঃ মাজার শরীফ চৌহাট্টা পয়েন্ট থেকে এক কিলোমিটারেরও কম দূরে অবস্থিত। এলাকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হল বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। মনরু শপিং সিটি এই এলাকার একমাত্র বড় শপিং কমপ্লেক্স। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, এবং সরকারি-বেসরকারি অফিস কাছাকাছি হওয়ায়, এই এলাকার আশপাশের রাস্তাগুলো বেশিরভাগ সময় যানজট ও কোলাহলপূর্ণ থাকে।<br><br>
চৌহাট্টা এলাকাটির সবচেয়ে ভালো দিক হলো, যানজট এবং কোলাহলপূর্ণ এলাকা হলেও, এখানকার পরিবেশ যথেষ্ট সবুজ। এলাকার পয়ঃনিস্কাশন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশ ভালো। মূলত যোগাযোগ সুবিধা, ট্রান্সপোর্টেশন এবং সকল নাগরিক সুবিধা হাতের নাগালে হওয়ায় এই এলাকার আবাসিক ভবনের চাহিদা অনেক। এখানে আপনি বাজেট বান্ধব ফ্লাট থেকে আধুনিক এপার্টমেন্ট পাবেন। আবাসিক ভবনের চাহিদা বাড়ায় এখানে বেশ কিছু এপার্টমেন্ট ভবনের কাজ চলমান রয়েছে। এই এলাকার মূল সমস্যা ভারী যানবাহন, শব্দ দূষণ এবং যানজট।<br><br>
যদিও চৌহাট্টা এলাকাটিতে উল্লেখযোগ্য ল্যান্ডমার্ক নেই, তবে এখানে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন এপার্টমেন্ট রয়েছে। এই এলাকার খুব কাছেই হযরত শাহ জালাল (রহ:) মাজার, রেড ক্রিসেন্ট মাতৃত্বকালীন হাসপাতাল ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা জজ আদালত, ভোলানন্দ রাসকুঞ্জ সেবামন্ডল (আশ্রম), চৌহাট্টা টেনিস কোর্ট ইত্যাদি। পর্যটকদের রাত্রি যাপনের জন্য এখানে সাধারণ থেকে বিলাসবহুল সকল ধরণের আবাসিক হোটেল রয়েছে। পানসি, পাঁচ ভাই সহ বেশি কিছু ঐতিহ্যবাহী রেস্ট্রুরেন্ট এই এলাকার খুব কাছেই অবস্থিত।
অন্তর্দৃষ্টি দেখুন